শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:২৬ অপরাহ্ন

আমতলী প্রতিনিধি: নয় বছর পরে আমতলী উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন বরিবার। এ সম্মেলন বাস্তবায়নে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। কেন্দ্রিয় নেতাদের স্বাগত জানাতে সম্মেলন স্থান পৌরসভা চত্ত¡র জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুর্যাল প্রাঙ্গণ বর্নিল সাজে সাজানো হয়েছে। পদ প্রত্যাশীদের পোষ্টার,ব্যানার ও ফেষ্টুনে ছেয়ে গেছে উপজেলার বিভিন্ন স্থান। পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়কসহ সম্মেলন স্থাণে তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। পদ প্রত্যাশীরা জেলা ও কেন্দ্রিয় নেতাদের সাথে যোগাযোগ করছেন।

জানাগেছে, ২০১৩ সালে উপজেলা আওয়ামীলীগ সম্মেলন হয়। ওই সম্মেলনে বীর মুক্তিযোদ্ধা জিএম দেলওয়ারকে সভাপতি ও সামসুদ্দিন আহম্মেদ ছজুকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এক বছরের মধ্যেই দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের অভিযোগে সাধারণ সম্পাদক সামসুদ্দিন আহম্মেদ ছজুকে বহিস্কার করা হয়। পরে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মতিয়ার রহমানকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়। গত নয় বছর এ কমিটিই ভালোভাবেই সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। গত ২০ অক্টোবর আওয়ামীলীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে বরগুনা জেলা ও জেলার অর্ন্তগত উপজেলা ও পৌর শাখার সম্মেলনের তারিখ ঘোষনা করা হয়। ওই ঘোষণার পরপরই আমতলী উপজেলা আওয়ামীলীগ ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণ চা ল্যতা ফিরে আসে। নয় বছর পরে আমতলী উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে উচ্ছাসে ভরপুর নেতাকর্মীরা। এ সম্মেলন বাস্তবায়নে উপজেলা আওয়ামীলীগ জোর প্রস্তুতি নিয়েছে। কেন্দ্রিয় নেতাদের স্বাগত জানাতে সম্মেলন স্থান পৌরসভা চত্¦র জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুর্যাল প্রাঙ্গণ বর্নিল সাজে সাজানো হয়েছে। পদ প্রত্যাশীদের পোষ্টার, ব্যানার ও ফেষ্টুনে ছেয়ে গেছে উপজেলার বিভিন্ন স্থানসহ পৌর শহর। পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়কসহ সম্মেলন স্থাণে তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। পদ প্রত্যাশীরা জেলা ও কেন্দ্রিয় নেতাদের সাথে যোগাযোগ করছেন। রবিবার সকাল ১০ টায় এ সম্মেলন উদ্বোধন করবেন বরগুনা জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি সাংসদ অ্যাড. ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রিয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. আফজাল হোসেন, প্রধান বক্তা বরগুনা জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক নবনির্বাচিত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ জাহাঙ্গির কবির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটির আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহম্মেদ, সদস্য মোঃ আনিসুর রহমান ও গোলাম রাব্বানী চিনু। সভাপতিত্বে করবেন উপজেলা আওয়ামীলীগ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড.এমএ কাদের মিয়া। সম্মেলন সঞ্চালনা করবেন উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মোঃ মতিয়ার রহমান। ত্রি-বর্ষিক সম্মেলনে সভাপতি হিসেবে যাদের নাম নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড, এম এ কাদের মিয়া, জেলা আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম শাহজাহান কবির, বরগুনা জেলা আওয়ামীলীগ সদস্য আলহাজ¦ গোলাম সরোয়ার ফোরকান মিয়া ও সাবেক পৌর মেয়র উপজেলা আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি মোঃ নাজমুল আহসান নান্নু। সাধারণ সম্পাদক পদে উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) পৌর মেয়র মোঃ মতিয়ার রহমান, যুবলীগ সভাপতি জিএম ওসমানী হাসান, আওয়ামীলীগ নেতা গাজী মোঃ সামসুল হক ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন খাঁন। এ সম্মেলনে ত্যাগী ও পরিক্ষিত নেতাকর্মীদের গুরুত্বপুর্ণ পদ দেয়ার দাবী জানান তৃণমুল নেতাকর্মীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন তৃণমুল নেতাকর্মী বলেন, গত নয় বছরে দলকে সুসংগঠিত করতে বর্তমান উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান প্রাণপণ চেষ্টা করেছেন। এই সম্মেলনে তাকেই সাধারণ সম্পাদক পদ দিলে দল আরো সুসংগঠিত হবে।
উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী উপজেলা যুবলীগ সভাপতি জিএম ওসমানী হাসান বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই বঙ্গবঙ্গু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আদর্শে থেকে কোন দিন বিচ্যুতি হয়নি। গত ৯ বছর উপজেলা যুবলীগকে শক্তিশালী করে কাজ তুলেছি। আশা করি কেন্দ্রিয় নেতারা আমাকে কাজের মুল্যায়ণ করবেন।
উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মোঃ মতিয়ার রহমান বলেন, দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে গত নয় বছর ধরে কাজ করছি। জীবনবাজী রেখে তৃণমুল নেতাকর্মীদের সুখে দুঃখে পাশে থেকে দলকে সুসংগঠিত করেছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রেরিত হয়ে প্রধাণমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছি। আমি বিশ্বাস করি দল আমাকে কাজের মুল্যায়ণ করবেন।
উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি প্রত্যাশী উপজেলা আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র মোঃ নাজমুল আহসান নান্নু বলেন, গত ৩০ বছর ধরে আওয়ামীলীগ রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। আওয়ামীলীগের দুর্দিনে সম্মুখ্য সাড়িতে থেকে দলের জন্য কাজ করেছি। দল করতে গিয়ে হামলা মামলার স্বীকার হয়েছি। জেল খেতেছি। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিজয়ী করতে সক্ষম হয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচন করতে গিয়ে ওই সময়ে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়েছি। তবুও এক কিি ৎ দল থেকে সড়ে দাড়াইনি। তিনি আরো বলেন, আমার নির্যাতনের সব কিছুই প্রধানমন্ত্রী অবগত আছেন। আশা করি প্রধানমন্ত্রী আমার কাজের মুল্যায়ণ করবেন।
উপজেলা আওয়ামীলীগ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ কাদের মিয়া বলেন, সারা জীবন নীতির উপর অবিচল থেকে নিরলসভাবে আওয়ামীলীগ রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে কাজ করেছি। কোন দিন দলের বাহিরে গিয়ে দলের বিরুদ্ধে কাজ করিনি। আশা করি দল আমাকে মুল্যায়ণ করবেন।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply